বাবর
-
বাবর
পীরিমকুল কাদিরভ (Pirimqul Qodirov) একজন বিখ্যাত উজবেক লেখক, যার ঐতিহাসিক উপন্যাস 'বাবর' (মূল উজবেক নাম: Yulduzli Tunlar বা 'নক্ষত্রখচিত রাত') কালজয়ী এক সৃষ্টি। এটি মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে লেখা অন্যতম সেরা সাহিত্যকর্ম।
বইটি সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
উপন্যাসটি ১৫শ শতাব্দীর শেষ এবং ১৬শ শতাব্দীর শুরুর দিকের মধ্য এশিয়া এবং ভারত উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে রচিত। এতে কিশোর বয়সে ফরগানার সিংহাসন লাভ থেকে শুরু করে বাবরের বর্ণাঢ্য সামরিক অভিযান, পানিপথের যুদ্ধ এবং ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পুরো যাত্রা চিত্রিত হয়েছে।
মানবিক বাবর: সাধারণত ইতিহাসের বইতে বাবরকে শুধু একজন বিজেতা হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু কাদিরভ তাকে একজন কবি, চিন্তাবিদ এবং স্নেহশীল পিতা হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ঐতিহাসিক নির্ভুলতা: লেখক বাবরের আত্মজীবনী 'বাবরনামা' এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক দলিল গভীরভাবে গবেষণা করে এটি লিখেছেন।
পরিবার ও আবেগ: বইটিতে বাবরের বোন খানজাদা বেগম, স্ত্রী এবং সন্তানদের সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত আবেগঘনভাবে চিত্রিত হয়েছে। স্বদেশের (সমরকন্দ ও ফরগানা) প্রতি তার চিরস্থায়ী টান উপন্যাসের একটি বড় দিক।
বইটিকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
সংগ্রামের শুরু: বাবার মৃত্যুর পর ১২ বছর বয়সে বাবরকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তার আত্মীয়স্বজন ও শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বর্ণনা।
সমরকন্দ জয় ও হার: সমরকন্দ দখলের স্বপ্ন এবং বারবার তা হারিয়ে যাযাবরের মতো জীবনযাপনের চিত্র।
কাবুল ও হিন্দুস্তান: কাবুল বিজয় এবং পরবর্তীতে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লিতে মুঘল শাসনের ভিত্তি স্থাপন।
শেষ সময়: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের সাম্রাজ্যকে সংহত করা এবং পুত্র হুমায়ুনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার সেই বিখ্যাত কিংবদন্তি।
উজবেক সাহিত্যে এই বইটি একটি মাইলফলক। এটি রুশ, ইংরেজি, হিন্দি এবং বাংলাসহ অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলাদেশে এই বইটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশেষ করে যারা ঐতিহাসিক উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন তাদের কাছে এটি একটি 'মাস্ট-রিড' হিসেবে বিবেচিত।
পীরিমকুল কাদিরভ (১৯২৮-২০১০): তিনি উজবেকিস্তানের একজন জাতীয় লেখক। ঐতিহাসিক উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও দার্শনিক বিভিন্ন বিষয়েও লিখেছেন, তবে 'বাবর' তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে।
আপনি যদি মুঘল ইতিহাস পছন্দ করেন, তবে এই বইটি আপনাকে ইতিহাসের শুকনো তথ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে সেই সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে।