Skip to Content
ক্ষুদিরাম

বাঙালি বিপ্লবের ইতিহাসে ক্ষুদিরাম বসু (১৮৮৯-১৯০৮) এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ শহিদদের মধ্যে অন্যতম। তাকে নিয়ে অনেক নাটক, সাহিত্য এবং গবেষণা হয়েছে।

ক্ষুদিরাম বসুকে কেন্দ্র করে কোনো একক 'উপন্যাস' নেই, তবে তাকে নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনীগ্রন্থ ও ঐতিহাসিক নথিপত্র রয়েছে। নিচে তার জীবন ও তাকে নিয়ে লেখা বই সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১. ক্ষুদিরামের জীবনীর প্রেক্ষাপট
  • জন্ম ও কৈশোর: ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের হাবিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে হাসিমুখে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

  • বিপ্লবী কর্মকাণ্ড: মেদিনীপুরের বিপ্লবী নেতা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রভাবে তিনি বিপ্লবী দলে যোগ দেন। এরপর অরবিন্দ ঘোষ এবং বারীন ঘোষের প্রভাবে তিনি অনুশীলন সমিতিতে কাজ শুরু করেন।

  • মুজাফফরপুর মিশন: ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মুজাফফরপুরের জেলা জজ কিংসফোর্ডকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন তিনি এবং প্রফুল্ল চাকী। ভুলবশত অন্য গাড়িতে বোমা পড়ায় কিংসফোর্ড বেঁচে গেলেও ব্রিটিশ শাসনে তোলপাড় শুরু হয়।

২. ক্ষুদিরামকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য বই ও রচনা

ক্ষুদিরামের সাহসিকতা ও ত্যাগ নিয়ে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য বই বাজারে পাওয়া যায়:

  • 'শহীদ ক্ষুদিরাম' (জীবনীগ্রন্থ): বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণামূলক বইয়ে তার জীবন ও বিপ্লবের কথা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। অমল কুমার মুখোপাধ্যায়ের মতো লেখকরা ক্ষুদিরামের উপর প্রচুর গবেষণা করেছেন।

  • বিপ্লবী আন্দোলনের দলিল: অনেক ঐতিহাসিক গ্রন্থে (যেমন—শিউলি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বা বিভিন্ন বিপ্লবী জীবনী সিরিজে) ক্ষুদিরামের কর্মকাণ্ডের খুঁটিনাটি পাওয়া যায়।

  • সাহিত্য ও নাটক: ক্ষুদিরামকে নিয়ে প্রচুর নাটক ও ছড়া রচিত হয়েছে। আমাদের লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে "একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি..." গানটি আজ ক্ষুদিরামেরই প্রতিচ্ছবি।

৩. কেন তার ইতিহাস পড়া জরুরি?
  • দেশপ্রেমের সংজ্ঞা: ১৯ বছর বয়সে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মতো অসীম সাহসিকতা আজও নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে।

  • বিপ্লবী মানস: ব্রিটিশরা তাকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করলেও তিনি এবং তার সমসাময়িক বিপ্লবীরা ছিলেন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় আত্মত্যাগী। তার বিচারের রায় ও ফাঁসিতে ঝোলার ধরণটি তৎকালীন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

৪. কিছু অজানা তথ্য
  • ফাঁসির মঞ্চ: ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট যখন তার ফাঁসি কার্যকর হয়, তখন তিনি এতটাই অবিচল ছিলেন যে উপস্থিত ব্রিটিশ কর্মকর্তারাও তার সাহসে বিস্মিত হয়েছিল।

  • মুজফফরপুরে তাকে ধরার পর: তার নির্ভীক জবানবন্দি এবং পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে তার দেওয়া উত্তর আজও ইতিহাসের দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

একটি বিশেষ স্মরণীয় মুহূর্ত: ক্ষুদিরামকে যখন ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তিনি তখন ভগবদগীতা হাতে নিয়েছিলেন। তার এই মৃত্যু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার নেশায় এমনভাবে উন্মাদ করেছিল যে, এরপর থেকেই ভারতে বিপ্লবী আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ওঠে।


Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provide enough options to retrieve its content.

Featured products