এম্পায়ার অফ দা মূঘল দা টেন্টেড থ্রোন
-
এম্পায়ার অফ দা মূঘল দা টেন্টেড থ্রোন
এম্পায়ার অফ দা মুঘল (Empire of the Moghul)
অ্যালেক্স রাদারফোর্ডের (Alex Rutherford) বিখ্যাত সিরিজ 'এম্পায়ার অফ দা মুঘল' (Empire of the Moghul)-এর তৃতীয় খণ্ড হলো 'দা টেন্টেড থ্রোন' (The Tented Throne)। এই বইটি মূলত মুঘল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ এবং তার ভেতরের তীব্র দ্বন্দ্বের গল্প বলে।
বইটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
এই খণ্ডটি শুরু হয় সম্রাট আকবরের শাসনের শেষ সময় থেকে এবং মূলত সম্রাট জাহাঙ্গীরের (সেলিম) সিংহাসন আরোহণ ও তার শাসনকালকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। ১৬০৫ সাল থেকে ১৬২৭ সালের ঘটনাবলি এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।
পিতা ও পুত্রের দ্বন্দ্ব: আকবরের সাথে তার বিদ্রোহী পুত্র সেলিমের (জাহাঙ্গীর) উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্ষমতার লড়াই এই বইয়ের মূল চালিকাশক্তি।
নূরজাহানের উত্থান: মুঘল ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নূরজাহান এবং তার বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সম্রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল, তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
খুররম (শাহজাহান): জাহাঙ্গীরের প্রিয় পুত্র খুররমের উত্থান এবং ভবিষ্যতে তার সম্রাট হওয়ার বীজ কীভাবে বপন হয়েছিল, তা-ও এই খণ্ডে দেখানো হয়েছে।
মাদক ও বিলাসিতা: জাহাঙ্গীরের মদ্যপান এবং আফিমের প্রতি আসক্তি কীভাবে রাজকার্যে প্রভাব ফেলেছিল এবং পর্দার আড়াল থেকে সাম্রাজ্য কারা চালাত, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
অ্যালেক্স রাদারফোর্ড (যা মূলত ডায়ানা এবং মাইকেল প্রেস্টন দম্পতির ছদ্মনাম) ইতিহাসের প্রধান ঘটনাগুলোকে ঠিক রেখে তাতে কাল্পনিক সংলাপ ও রোমাঞ্চ যোগ করেছেন।
যুদ্ধ ও কৌশল: মুঘলদের রণকৌশল এবং শিবিরের (Tented Throne - যা থেকে বইয়ের নাম এসেছে) জীবনযাত্রার বর্ণনা অত্যন্ত নিখুঁত।
ষড়যন্ত্র: রাজদরবারের ভেতরের কুটিল রাজনীতি এবং ভাইয়ে-ভাইয়ে লড়াইয়ের এক নির্মম চিত্র এই উপন্যাসে পাওয়া যায়।
যদি আপনি মুঘলদের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন এবং তাদের অমানবিক ক্ষমতার লড়াইয়ের গল্প পছন্দ করেন, তবে এই বইটি আপনার জন্য। এটি ইতিহাসের বইয়ের মতো শুকনো নয়, বরং একটি টানটান থ্রিলার উপন্যাসের মতো।
১. Raiders from the North (বাবর)
২. Brothers at War (হুমায়ুন)
৩. The Tented Throne (আকবর ও জাহাঙ্গীর)
৪. The Serpent's Tooth (শাহজাহান)
৫. The Traitor in the Skull (আওরঙ্গজেব)
একটি মজার তথ্য: বইটির নাম 'দা টেন্টেড থ্রোন' রাখার কারণ হলো, মুঘল সম্রাটরা প্রায়ই যুদ্ধের জন্য বা ভ্রমণে বাইরে থাকতেন এবং তাঁবুর ভেতরেই তাদের বিশাল দরবার বা সিংহাসন বসত।