আজ হিমুর বিয়ে
হুমায়ূন আহমেদের হিমু সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় এবং হাস্যরসে ভরপুর একটি উপন্যাস হলো 'আজ হিমুর বিয়ে'। এই বইটির নাম শুনেই পাঠকদের মনে কৌতূহল জাগে—যে হিমু চিরকাল বাঁধনহারা, হলুদ পাঞ্জাবি পরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়, তার পক্ষে কি আসলেও বিয়ে করা সম্ভব?
এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু এবং মজার দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কাহিনীর প্রেক্ষাপট
উপন্যাসটির শুরু হয় হিমুর বিয়ের তোড়জোড় নিয়ে। হিমুর খালা এবং খালু (যিনি হিমুকে একদম সহ্য করতে পারেন না) আদাজল খেয়ে লেগেছেন হিমুর বিয়ে দেওয়ার জন্য। হিমুর জন্য পাত্রীও ঠিক করা হয়। হিমু তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে এই পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নেয় এবং তার চারপাশের মানুষের সাথে নানা রকম 'অ্যান্টি-লজিক' বা অযুক্তির খেলা শুরু করে।
২. হিমুর অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা
বিয়ের পিঁড়িতে বসার বদলে হিমু ব্যস্ত থাকে তার নিজস্ব জগত নিয়ে।
বিয়ের আসর ও হিমু: বিয়ের দিন হিমু এমন সব কাণ্ড করে যা সাধারণ মানুষের বুদ্ধির বাইরে। সে কি শেষ পর্যন্ত বিয়েটা করে? নাকি বিয়ের আসর থেকে উধাও হয়ে যায়? এই রহস্যটাই বইটির প্রাণ।
রূপার প্রতিক্রিয়া: হিমুর জীবনের ছায়াসঙ্গী রূপা। হিমুর বিয়ের সংবাদে রূপার মনের অবস্থা এবং তাদের মধ্যকার সেই অমীমাংসিত সম্পর্কের এক সূক্ষ্ম রেশ এই বইয়ে পাওয়া যায়।
৩. মজার চরিত্রসমূহ
হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর গুণেই এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে:
খালু সাহেব: হিমুর ওপর যার চিরকালের রাগ। হিমুর বিয়ে দিয়ে তাকে 'লাইনে' আনার আপ্রাণ চেষ্টা তাঁর ব্যর্থতা আর রাগের মধ্য দিয়ে এক দারুণ হিউমার তৈরি করে।
বাদল: হিমুর পরম ভক্ত। হিমুর বিয়ে নিয়ে তার উত্তেজনা এবং দ্বিধা গল্পে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
৪. কেন এই বইটি বিশেষ?
নির্মল আনন্দ: এটি হিমু সিরিজের এমন একটি বই যা পড়লে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবে। হিমুর সংলাপ এবং উপস্থিত বুদ্ধি এখানে তুঙ্গে।
মধ্যবিত্তের বিয়ের ছবি: বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের বিয়ের আয়োজন, হুলস্থুল এবং মানসিকতা এখানে খুব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি: হুমায়ূন আহমেদের গল্পের শেষটা সবসময়ই একটু চমকপ্রদ হয়, এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
বইটির মূল বার্তা
হিমু আসলে এমন একজন মানুষ যে কোনো ফ্রেমের মধ্যে আটকা পড়তে চায় না। বিয়ে একটি সামাজিক প্রথা বা বন্ধন, আর হিমু হলো সেই মুক্ত বাতাস যা কোনো ঘরে বন্দি হতে রাজি নয়। 'আজ হিমুর বিয়ে' বইটির মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে, হিমু তার 'মহাপুরুষ' হওয়ার পথে কতটা অটল।
একটি মজার উক্তি: "বিয়ে করা মানে হলো নিজের স্বাধীনতার ওপর নিজেই কুঠার মারা। তবে কুঠারটা যদি সোনার হয়, অনেকেই তাতে রাজি হয়ে যায়।" (হিমুর দর্শনের ছায়ায়)।