শেক্সপীয়ার রচনা সমগ্র
উইলিয়াম শেক্সপীয়ার (১৫৬৪-১৬১৬) বিশ্বসাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার এবং কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর রচনাবলি বা 'Shakespeare Complete Works' মূলত নাটক, সনেট এবং দীর্ঘ কবিতার এক বিশাল ভাণ্ডার। প্রায় ৪০০ বছর পার হয়ে গেলেও মানুষের মনের গহীন আবেগ—প্রেম, ঈর্ষা, ক্ষমতা এবং ট্র্যাজেডি চিত্রায়নে তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
শেক্সপীয়ারের সমগ্র সাহিত্যকর্মকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ট্র্যাজেডি (Tragedies)
শেক্সপীয়ারের ট্র্যাজেডিগুলো বিশ্ববিখ্যাত। এগুলো সাধারণত মানুষের চরিত্রের কোনো একটি বিশেষ ত্রুটি (Tragic Flaw) এবং তার করুণ পরিণতি নিয়ে রচিত।
হ্যামলেট (Hamlet): প্রতিশোধ এবং দ্বিধার এক চিরন্তন আখ্যান।
ম্যাকবেথ (Macbeth): ক্ষমতার লোভ এবং অপরাধবোধের চরম পরিণতি।
ওথেলো (Othello): ঈর্ষা ও সন্দেহের কারণে একটি সুন্দর সম্পর্কের ধ্বংস।
কিং লিয়ার (King Lear): বার্ধক্য, সন্তানদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভুল বিচারের ট্র্যাজেডি।
রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট (Romeo and Juliet): দুই পরিবারের শত্রুতার মাঝে অমর প্রেমের বলিদান।
২. কমেডি (Comedies)
তাঁর কমেডিগুলো মূলত ভুল বোঝাবুঝি, ছদ্মবেশ এবং শেষ পর্যন্ত মিলনের আনন্দে ভরপুর।
অ্যাজ ইউ লাইক ইট (As You Like It): যেখানে বিখ্যাত উক্তি আছে— "All the world's a stage"।
দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস (The Merchant of Venice): শাইলক চরিত্র এবং ন্যায়বিচারের এক টানটান নাটক।
আ মিডসামার নাইট'স ড্রিম (A Midsummer Night's Dream): রূপকথা এবং জাদুর ছোঁয়ায় প্রেমের গল্প।
টুইলফথ নাইট (Twelfth Night): ছদ্মবেশ ও মজার সব ঘটনার সংমিশ্রণ।
৩. ঐতিহাসিক নাটক (Histories)
ইংল্যান্ডের রাজবংশের উত্থান-পতন নিয়ে তিনি বেশ কিছু নাটক লিখেছেন।
হেনরি চতুর্থ (Henry IV), রিচার্ড তৃতীয় (Richard III) এবং হেনরি পঞ্চম (Henry V)।
৪. কবিতা ও সনেট (Poetry & Sonnets)
শেক্সপীয়ার কেবল নাট্যকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক প্রথিতযশা কবি।
সনেট: তিনি মোট ১৫৪টি সনেট লিখেছেন। তাঁর সনেটগুলো মূলত ভালোবাসা, সময়ের নিষ্ঠুরতা এবং সৌন্দর্যের ক্ষয় নিয়ে রচিত।
দীর্ঘ কবিতা: 'ভেনাস অ্যান্ড অ্যাডোনিস' (Venus and Adonis) এবং 'দ্য রেপ অফ লুক্রিস' (The Rape of Lucrece)।
শেক্সপীয়ার সমগ্র পড়ার উপায় (বাংলায়)
আপনি যদি বাংলায় শেক্সপীয়ার পড়তে চান, তবে নিচের মাধ্যমগুলো বেছে নিতে পারেন:
অনুবাদ সমগ্র: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বা বিভিন্ন বড় প্রকাশনী থেকে শেক্সপীয়ার রচনাবলির বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। (যেমন: মুনীর চৌধুরী বা সৈয়দ শামসুল হকের করা অনুবাদগুলো অত্যন্ত উঁচু মানের)।
ল্যাম্বস টেলস ফ্রম শেক্সপীয়ার (Lamb's Tales from Shakespeare): যারা সরাসরি নাটক পড়তে কঠিন বোধ করেন, তারা চার্লস ও মেরি ল্যাম্ব-এর লেখা গল্পের আকারে নাটকের সারসংক্ষেপ দিয়ে শুরু করতে পারেন। বাংলায় এটি 'শেক্সপীয়ারের গল্পের আসর' নামে পাওয়া যায়।
কেন তাঁর রচনাবলি আজও প্রাসঙ্গিক?
১. চরিত্রের গভীরতা: তিনি এমন সব চরিত্র তৈরি করেছেন যারা বাস্তবের রক্ত-মাংসের মানুষের মতো ভুল করে, কাঁদে এবং হাসে।
২. ভাষার প্রভাব: ইংরেজি ভাষায় আমরা বর্তমানে যে অসংখ্য শব্দ বা বাগধারা ব্যবহার করি, তার অনেকগুলোই শেক্সপীয়ারের সৃষ্টি।
৩. চিরন্তন সত্য: ভালোবাসা, ঈর্ষা বা রাজনৈতিক চক্রান্ত—শেক্সপীয়ারের বিষয়বস্তুগুলো কখনো পুরনো হয় না।
একটি মজার তথ্য: শেক্সপীয়ারের নাটকে কোনো নারী অভিনেত্রী অভিনয় করতেন না; তৎকালীন সময়ে নারীদের চরিত্রে কিশোর ছেলেরাই অভিনয় করত। কিন্তু তাঁর কলমে 'পোর্শিয়া' বা 'লেডি ম্যাকবেথ'-এর মতো শক্তিশালী নারী চরিত্রগুলো যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।