Skip to Content
আকবর

মুঘল সম্রাট জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর (শাসনকাল ১৫৫৬–১৬০৫) ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তাঁকে সাধারণত ‘আকবর দ্য গ্রেট’ বা ‘আকবর মহান’ বলা হয়। তেরো বছর বয়সে সিংহাসনে বসা এই সম্রাট নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যকে এক বিশাল ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন।

আকবর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. সাম্রাজ্য বিস্তারে কৃতিত্ব

১৫৫৬ সালে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে বৈরাম খানের পরিচালনায় হিমুর পরাজয় ছিল আকবরের জীবনের বড় বাঁক। এরপর তিনি উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জয় করেন। তাঁর শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্য কাশ্মীর থেকে বাংলা এবং দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

২. প্রশাসনিক সংস্কার ও নবরত্ন

আকবর একজন চমৎকার প্রশাসক ছিলেন। তাঁর প্রশাসনের মূল স্তম্ভ ছিল:

  • মনসবদারি প্রথা: সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণের জন্য এই ব্যবস্থা ছিল যুগান্তকারী।

  • রাজস্ব ব্যবস্থা: রাজা তোড়রমলের সাহায্যে তিনি আধুনিক ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।

  • নবরত্ন: আকবরের সভায় নয়জন গুণী ব্যক্তি ছিলেন, যাদের ‘নবরত্ন’ বলা হতো। এর মধ্যে বীরবল (কূটনীতি), তানসেন (সঙ্গীত), আবুল ফজল (ইতিহাস), রাজা মানসিংহ (সেনাপতি) এবং রাজা তোড়রমল (অর্থনীতি) উল্লেখযোগ্য।

৩. ধর্মীয় নীতি ও সহনশীলতা

আকবর ছিলেন ধর্মের বিষয়ে অত্যন্ত উদার।

  • দিন-ই-ইলাহী: তিনি বিভিন্ন ধর্মের সারমর্ম নিয়ে ‘দিন-ই-ইলাহী’ নামক একটি নতুন মতাদর্শ প্রবর্তন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর ধর্মীয় সহনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।

  • ইবাদত খানা: ফতেহপুর সিক্রিতে তিনি ‘ইবাদত খানা’ তৈরি করেছিলেন যেখানে বিভিন্ন ধর্মের পন্ডিতরা নিজেদের ধর্মের বিষয়ে আলোচনা করতেন।

  • জিজিয়া কর রহিত: তিনি অমুসলিমদের ওপর থেকে ‘জিজিয়া কর’ তুলে নিয়েছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ।

৪. শিল্প ও স্থাপত্য

আকবরের সময় মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক নতুন রূপ পায়। ফতেহপুর সিক্রি, বুলন্দ দরওয়াজা, হুমায়ুনের সমাধি (তাঁর তদারকিতে সম্পন্ন) এবং আগ্রার দুর্গের বড় অংশ তাঁরই কীর্তি। তিনি ফারসি ভাষাকে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন এবং তাঁর সময়কালে সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি হয়।

৫. ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য

আকবর নিজে লিখতে বা পড়তে পারতেন না (অনেকের মতে তিনি ডিসলেক্সিক ছিলেন), কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানপিপাসু। তিনি সবসময় পণ্ডিতদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শুনতেন এবং মনে রাখতেন। বীরবলের সাথে তাঁর মজাদার ও বুদ্ধিদীপ্ত গল্পের ঝুড়ি আজও জনপ্রিয়।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

আকবর কেবল একজন বিজেতা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এমন এক শাসক যিনি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষকে একই ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর ‘দিন-ই-ইলাহী’ প্রবর্তনের মতো কিছু কাজ তৎকালীন রক্ষণশীল উলামা ও ঐতিহাসিকদের কাছে সমালোচনার কারণ হয়েছিল।

একটি মজার তথ্য: আকবর পশু-পাখির লড়াই এবং শিকারের প্রচণ্ড অনুরাগী ছিলেন। তাছাড়াও তিনি তৎকালীন ভারতের বিখ্যাত সব সঙ্গীতজ্ঞ ও শিল্পীদের রাজকীয় মর্যাদা দিয়ে উৎসাহিত করতেন।

 

Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provide enough options to retrieve its content.

Featured products