Skip to Content
দেবদাস

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' (১৯১৭) কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেম ও বিরহের এক চিরন্তন প্রতীক। বিয়োগান্তক প্রেমের গল্প হিসেবে এর জনপ্রিয়তা এতটাই যে, 'দেবদাস' শব্দটি এখন ব্যর্থ প্রেমিকের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপন্যাসটির মূল ভিত্তি এবং চরিত্রগুলোর গভীরতা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. মূল কাহিনী ও প্রেক্ষাপট

উপন্যাসের পটভূমি বাংলার এক জমিদার পরিবার। শৈশবের খেলার সাথী দেবদাস এবং পার্বতী (পারু)-র সহজ সরল ভালোবাসা যখন পূর্ণতা পেতে চায়, তখন আভিজাত্য এবং সামাজিক কুসংস্কার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দেবদাসের দ্বিধা এবং পারিবারিক অহংকারের কারণে পারুর বিয়ে হয়ে যায় অন্য এক বৃদ্ধ জমিদারের সাথে। এই বিচ্ছেদ দেবদাসকে ঠেলে দেয় এক অন্ধকার গহ্বরে।

২. প্রধান তিনটি চরিত্র
  • দেবদাস: সে এক আত্মঘাতী প্রেমিক। পরিস্থিতির সাথে লড়ার চেয়ে সে নিজেকে ধ্বংস করতেই বেশি সচেষ্ট হয়। তার ট্র্যাজেডি হলো—যখন সময় ছিল তখন সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, আর যখন বুঝতে পারল, তখন সব শেষ হয়ে গেছে।

  • পার্বতী (পারু): প্রেমের চেয়েও মর্যাদাবোধ এবং আত্মসম্মান যার কাছে বড় ছিল। সে দেবদাসকে ভালোবাসলেও পরিস্থিতির চাপে একনিষ্ঠ গৃহবধূর দায়িত্ব পালন করে গেছে, যদিও তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ চলত সারাক্ষণ।

  • চন্দ্রমুখী: বারাণসীর এক বারবণিতা, যে দেবদাসের সংস্পর্শে এসে নিজের জীবন বদলে ফেলে। দেবদাসের প্রতি তার নিঃস্বার্থ সেবা ও ভালোবাসা চরিত্রটিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। দেবদাস পারুকে ভালোবেসেছিল, কিন্তু চন্দ্রমুখী ভালোবেসেছিল দেবদাসকে।

৩. উপন্যাসের বিশেষত্ব ও প্রভাব
  • বিয়োগান্তক সমাপ্তি: দেবদাসের শেষ পরিণতি—মৃত্যুর আগে পারুর দুয়ারে একটুখানি আশ্রয়ের আকুলতা পাঠকদের চোখে জল আনে।

  • সামাজিক চিত্র: তৎকালীন সমাজের জমিদারি প্রথা, মদ্যপান এবং নারী অবমাননার এক করুণ ছবি এখানে ফুটে উঠেছে।

  • চলচ্চিত্রে রূপায়ন: দেবদাস নিয়ে বাংলা, হিন্দি এবং অন্যান্য ভাষায় অসংখ্যবার চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। প্রমথেশ বড়ুয়া থেকে শুরু করে দিলীপ কুমার বা শাহরুখ খান—সবাই এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

৪. কেন 'দেবদাস' আজও প্রাসঙ্গিক?

মানুষের মনের অবদমিত ইচ্ছা, ভুল সময়ে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রেমের জন্য চরম আত্মত্যাগের যে আকুতি শরৎচন্দ্র এঁকেছেন, তা যে কোনো যুগের মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে অহংকার এবং দ্বিধা কীভাবে একটি সুন্দর জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

একটি বিশেষ তথ্য: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সে, যদিও এটি প্রকাশিত হয়েছিল অনেক পরে। তিনি নিজেও ভাবেননি যে এই কিশোর বয়সের লেখাটি একদিন বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাবে।

 

Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provide enough options to retrieve its content.

Featured products