শংকু সমগ্র
অধ্যাপক শঙ্কু সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি করা এক কালজয়ী চরিত্র, যা বাংলা কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশনের জগতে এক অবিসংবাদিত নাম। গিরিডি-র বাসিন্দা এই বিজ্ঞানী কেবল একজন উদ্ভাবক নন, তিনি একজন বিশ্বভ্রমণকারী এবং এক প্রবল কৌতূহলী মানুষ।
'শঙ্কু সমগ্র' বলতে সাধারণত তাঁর সমস্ত ডায়েরির সংকলন বোঝায়, যা সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। নিচে শঙ্কু সমগ্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. প্রফেসর শঙ্কুর পরিচিতি
অধ্যাপক ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু, সংক্ষেপে প্রফেসর শঙ্কু। তিনি একজন অসাধারণ প্রতিভাধর বিজ্ঞানী, যিনি তাঁর গবেষণাগারে একের পর এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় সব যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তাঁর সহকারী বিড়াল 'নিউটন' এবং চাকর ' প্রহ্লাদ' এই সিরিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২. শঙ্কুর কিছু বিখ্যাত আবিষ্কার
শঙ্কুর প্রতিটি গল্পই তাঁর নতুন কোনো আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে লেখা:
মিরাকিউর্ (Miracure): এমন এক ওষুধ যা সব রোগ সারিয়ে দেয়।
অ্যানাইহিলিন (Annihilin): পিস্তল যা মানুষকে অদৃশ্য বা নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।
শঙ্কু-প্ল্যাস্ট (Shonku-plast): মাটি থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত সব আকার বা প্রাণী তৈরির উপকরণ।
লিংগুয়াগ্রাফ (Linguagraph): বিশ্বের যেকোনো ভাষা শেখার যন্ত্র।
কার্ভাস (Corvus): একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমান কাক, যা কথা বলতে পারে।
৩. শঙ্কুর অ্যাডভেঞ্চারের প্রেক্ষাপট
শঙ্কু কেবল গিরিডিতে বসে কাজ করেন না, বরং রহস্য সমাধানে তিনি পৃথিবী চষে বেড়ান। তাঁর গন্তব্য হতে পারে:
অ্যামাজনের জঙ্গল: যেখানে তিনি রোমাঞ্চকর সব প্রাণীর মুখোমুখি হন।
তিব্বতের গুহা বা মিসরের পিরামিড: যেখানে প্রাচীন অভিশাপ ও রহস্য তাঁর জন্য অপেক্ষা করে।
ভিনগ্রহ বা মহাকাশ: তিনি মহাকাশযানে চড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।
৪. কেন 'শঙ্কু সমগ্র' পড়বেন?
বৈজ্ঞানিক কল্পনা: সত্যজিৎ রায় খুব সহজভাবে বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বিশ্বভ্রমণ: এক একটা গল্প পড়ার অর্থ হলো এক একটা নতুন দেশে বা নতুন পরিবেশে হারিয়ে যাওয়া।
ব্যক্তিত্ব: প্রফেসর শঙ্কুর চরিত্রটি অত্যন্ত মার্জিত, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসী। তাঁর ডায়েরির বর্ণনাশৈলী পাঠকের মনে এক ধরনের বাস্তবতার ছাপ ফেলে।
৫. সংগ্রহের পরামর্শ
শঙ্কু সমগ্রের বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে বের হওয়া সংকলনগুলো সাধারণত দুই বা তিন খণ্ডে পাওয়া যায়। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত সংকলনটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
একটি বিশেষ তথ্য: সত্যজিৎ রায় শঙ্কুর গল্পগুলো লিখতেন শঙ্কুর 'ডায়েরি' হিসেবে। প্রতিটা গল্পের শুরুতে তারিখ এবং স্থান উল্লেখ থাকে, যা গল্পগুলোকে এক ধরনের প্রামাণিক বা বাস্তব রূপ দেয়।