শার্লক হোমস সমগ্র
স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সৃষ্ট শার্লক হোমস বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী গোয়েন্দা চরিত্র। ১৮৮৭ সালে 'এ স্টাডি ইন স্কারলেট' উপন্যাসের মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। হোমস মূলত তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক যুক্তি (deductive reasoning) এবং ছদ্মবেশ ধারণের দক্ষতার জন্য পরিচিত।
'শার্লক হোমস সমগ্র' সাধারণত ৪টি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস এবং ৫টি গল্প সংকলনের (মোট ৫৬টি ছোটগল্প) সমন্বয়ে গঠিত।
১. চারটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস
এ স্টাডি ইন স্কারলেট (A Study in Scarlet): এটি প্রথম উপন্যাস, যেখানে হোমস এবং ডাক্তার ওয়াটসনের প্রথম পরিচয় ঘটে এবং তারা ২২১বি বেকার স্ট্রিটে থাকতে শুরু করেন।
দ্য সাইন অফ ফোর (The Sign of Four): এটি একটি রহস্যময় গুপ্তধন এবং চারজন মানুষের চুক্তির কাহিনী। এখানেই ওয়াটসনের সাথে মেরি মরস্টনের পরিচয় হয়।
দ্য হাউন্ড অফ দ্য বাস্কারভিলস (The Hound of the Baskervilles): ডার্টমুর অঞ্চলের একটি অভিশপ্ত বিশাল শিকারি কুকুরের রহস্য। এটিকে হোমসের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলা হয়।
দ্য ভ্যালি অফ ফিয়ার (The Valley of Fear): এটি একটি খুনের রহস্য যা আমেরিকার একটি গোপন অপরাধী চক্রের সাথে যুক্ত।
২. ছোটগল্পের পাঁচটি সংকলন
হোমসের ছোটগল্পগুলো ওয়াটসনের ডায়েরি বা বর্ণনার আকারে লেখা। সংকলনগুলো হলো:
দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ শার্লক হোমস: ১২টি গল্পের এই সংকলনে 'এ স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া'র মতো বিখ্যাত গল্প আছে।
দ্য মেমোয়ার্স অফ শার্লক হোমস: এখানে হোমসের চিরশত্রু প্রফেসর মরিয়ার্টির সাথে তার বিখ্যাত দ্বৈরথ 'দ্য ফাইনাল প্রবলেম' অন্তর্ভুক্ত।
দ্য রিটার্ন অফ শার্লক হোমস: পাঠকদের প্রবল চাপে লেখক হোমসকে আবার ফিরিয়ে আনেন (দ্য এম্পটি হাউস গল্পের মাধ্যমে)।
হিজ লাস্ট বো (His Last Bow): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা কিছু গল্প।
দ্য কেস-বুক অফ শার্লক হোমস: হোমসের তদন্ত জীবনের শেষ দিককার ১২টি গল্প।
৩. প্রধান চরিত্রসমূহ
শার্লক হোমস: একজন 'কনসাল্টিং ডিটেকটিভ'। তিনি নিজেকে একজন যন্ত্রের মতো মনে করেন যেখানে আবেগের স্থান কম।
ডাক্তার জন ওয়াটসন: হোমসের বন্ধু, সহযোগী এবং তার অভিযানের লিপিকার। তিনি একজন যুদ্ধফেরত ডাক্তার।
প্রফেসর জেমস মরিয়ার্টি: অপরাধ জগতের সম্রাট এবং হোমসের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। হোমস তাকে 'অপরাধের নেপোলিয়ন' বলতেন।
মাইক্রফট হোমস: শার্লকের বড় ভাই, যার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা শার্লকের চেয়েও বেশি বলে মনে করা হয়।
আইরিন অ্যাডলার: একমাত্র নারী যাকে হোমস শ্রদ্ধা করতেন এবং যাকে তিনি 'দ্য ওম্যান' (The Woman) বলে সম্বোধন করতেন।
৪. কেন শার্লক হোমস আজও অপরাজেয়?
যুক্তি ও বিজ্ঞান: ফরেনসিক সায়েন্স উন্নত হওয়ার আগেই হোমস আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপ বা সিগারেটের ছাই বিশ্লেষণ করে রহস্য সমাধান করতেন।
লন্ডনের আবহাওয়া: ভিক্টোরিয়ান লন্ডনের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তা, ঘোড়ার গাড়ি আর গ্যাসবাতির পরিবেশ গল্পগুলোতে এক অদ্ভুত রহস্যময়তা যোগ করে।
পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা: তার বিখ্যাত উক্তি— "You see, but you do not observe." অর্থাৎ, আমরা দেখি কিন্তু লক্ষ্য করি না—এটিই হোমসের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
পড়ার পরামর্শ
বাংলায় শার্লক হোমস পড়ার জন্য অদ্রীশ বর্ধন বা নৃপেন চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত দুই খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ 'শার্লক হোমস সমগ্র' সংগ্রহ করতে পারেন।
একটি মজার তথ্য: স্যার আর্থার কোনান ডয়েল একসময় হোমসকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে তাকে মেরে ফেলেছিলেন ('দ্য ফাইনাল প্রবলেম' গল্পে)। কিন্তু পাঠকদের ক্ষোভ আর চাপে তিনি প্রায় ১০ বছর পর হোমসকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।