Skip to Content
সহীহ বুখারী

সহীহ আল-বুখারী হলো ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় প্রধান উৎস এবং হাদীস শাস্ত্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.) দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিশ্রমে প্রায় ৬ লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে এই মহান গ্রন্থটি সংকলন করেন। মুসলিম উম্মাহর নিকট পবিত্র কুরআনের পরেই এই গ্রন্থের স্থান।

বাংলা ভাষায় সহীহ বুখারীর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও সংকলনগুলো সাধারণত ৬ থেকে ১০টি খণ্ডে পাওয়া যায়। নিচে এর গঠন এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. গ্রন্থের বিন্যাস ও গঠন

ইমাম বুখারী (রহ.) বিষয়ভিত্তিক অধ্যায় বা 'বাব' অনুযায়ী হাদীসগুলোকে সাজিয়েছেন। এর মূল কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

  • মোট হাদীস সংখ্যা: পুনরাবৃত্তিসহ এতে প্রায় ৭,৫৬৩টি হাদীস রয়েছে। তবে পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে হাদীসের সংখ্যা প্রায় ২,৬০০ থেকে ৪,০০০ এর মতো।

  • অধ্যায় বিন্যাস: ওহীর সূচনা, ঈমান, ইলম (জ্ঞান), সালাত (নামাজ), যাকাত, হজ, সাওম (রোজা), কেনাবেচা এবং বিয়ে থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ের ওপর আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে।

  • শর্তাবলী: ইমাম বুখারী হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর শর্তারোপ করতেন। রাবীদের (বর্ণনাকারী) বিশ্বস্ততা এবং শিক্ষক-ছাত্রের সরাসরি সাক্ষাৎ নিশ্চিত করার পরই তিনি কোনো হাদীস গ্রহণ করতেন।

২. জনপ্রিয় বাংলা সংস্করণসমূহ

বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রকাশনী ও সংস্থা সহীহ বুখারীর নির্ভরযোগ্য অনুবাদ প্রকাশ করেছে:

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: সরকারি এই অনুবাদটি অত্যন্ত শুদ্ধ এবং সর্বজনগ্রাহ্য। এটি সাধারণত কয়েক খণ্ডে বিভক্ত।

  • তাওহীদ পাবলিকেশন্স: আধুনিক মুদ্রণ এবং হাদীসের মান (সহীহ, যঈফ ইত্যাদি) আল্লামা আলবানীর তাহকীকসহ এখানে দেওয়া হয়েছে।

  • আধুনিক প্রকাশনী: সাধারণ পাঠকদের জন্য এটি বেশ সহজবোধ্য এবং বহুল প্রচলিত।

  • আজিজুল হক (রহ.)-এর অনুবাদ: যা 'বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা' হিসেবে পরিচিত এবং কওমি মাদরাসাগুলোতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

৩. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহীহ বুখারী

আপনি যদি মোবাইল বা কম্পিউটারে পড়তে চান, তবে নিচের অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

  • Al Hadith (iTarik): এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় হাদীস অ্যাপ। এখানে বুখারী শরীফসহ সব প্রধান হাদীস গ্রন্থের অনুবাদ ও মান যাচাই করার সুবিধা আছে।

  • HadithBD.com: এখানে অনলাইনে সরাসরি সার্চ করে যেকোনো বিষয়ের হাদীস বের করা যায়।

৪. বুখারী শরীফ পড়ার নিয়ম
  1. প্রাসঙ্গিকতা বোঝা: অনেক সময় একটি হাদীস বুঝতে হলে তার প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। তাই কেবল অনুবাদ না পড়ে সাথে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা বা 'শরহ' পড়া উত্তম।
  2. হাদীসের নম্বর: আন্তর্জাতিক নাম্বারিং এবং প্রকাশনীভেদে নাম্বারিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে মূল বক্তব্য একই থাকে।
  3. আমলের নিয়ত: হাদীস কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য নয়, বরং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করার নিয়তে পড়া উচিত।

একটি বিশেষ তথ্য: ইমাম বুখারী (রহ.) প্রতিটি হাদীস গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার আগে গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারা (আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা) করতেন। এই ঐকান্তিক নিষ্ঠার কারণেই এই গ্রন্থটি 'আস-সাহ্হুল কুতুব' বা কুরআনের পর বিশুদ্ধতম গ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে।

 

Your Dynamic Snippet will be displayed here... This message is displayed because you did not provide enough options to retrieve its content.

Featured products